অনিলবরণ
কল্যানীয়েষু,
তোমার ১লা তারিখের পত্র এবং তোমার ফটো মাকে দেখাইয়েছি, মা তোমাকে আশীর্বাদ দিয়াছেন, সর্ব্বদা শীমার আশীর্ব্বাদ স্মরণ রাখিয়া নিশ্চয়ই তাঁহার কার্যে সাফল্য লাভ করিবে।
কলিকাতা হইতে প্রমথ পত্র দিয়াছে, তোমার সহিত আলাপে সে সুখী হইয়াছে —- আমি বলি, ভগবান যে সকলকে নিজেই টানিতেছেন – তাই ত তাঁহার নাম কৃষ্ণ, কাহার কি ভাবে কখন ভগবানের দিকে টান পড়িবে কে বলিতে পারে? সেই সময় যাহাতে সে ঠিক পথ দেখিতে পায়, সাধনার সুযোগ পায় – সেইজন্য সর্বত্র ব্যাবস্থা রাখা আমি একান্ত আবশ্যক মনে করি। যুগের পরিবর্ত্তন হইতেছে, অনিবার্য ভাবে অধ্যাত্ম যুগ আসিতেছে – এখন আর মানুষকে ভগবানের দিকে ফিরাইবার জন্য বেশী টানাটানি করিতে হইবে না।
ইন্দাসে বিষ্ণুপুর রাজবংশের রণবীর সিংহ দেবের সহিত নিশ্চয় দেখা করিবে। সে গীতা প্রচারের চেষ্টা করিতেছে। ঐখান হইতে যদি একবার বীউর যাইতে পার ত ভালো হয়। সেখানে ডাঃ নন্দকিশোর নন্দী পল্লীসংগঠন ও গীতা প্রচারের চেষ্টা করিতেছেন। সোনামূখীতে বাবুপাড়ায় অনিলেন্দ্র বন্দোপাধ্যাইয়ের সহিত দেখা করিবে – সে আমার বিশেষ অনুরাগী। সম্ভ্রান্ত বংশ – এখন অবস্থা খুবই খারাপ। দুইটি বয়স্কা কন্যার বিবাহ দিতে না পারিয়া দুশ্চিন্তায় আহার নিদ্রা ত্যাগের উপক্রম। আমাকে পাত্রের সন্ধান করিয়া দিতে বলিয়াছেন। অভিভাবকেরা বিবাহ দিতে এত ব্যগ্র বলিয়াই ত পণপ্রথা এত বাড়িয়া গিয়াছে। নাইবা হল বিয়ে? সাংসারিক জীবনে প্রকৃত সুখও নাই শান্তিও না – কেবল গতানুগতিকভাবে উটের কাঁটা চিবানো। অনিলেন্দ্র কংগ্রেসের একজন পান্ডা – তাহাকে বল কংগ্রেসের ভিতর থাকিয়াই শ্রীঅরবিন্দের মত প্রচার করুক অথবা কংগ্রেস ছাড়িয়া ইউনিটি পার্টি গঠন করিতে লাগিয়া যাক।